Story About Young Chef Faysal Bhuiyan

93

পেশাগত জীবনে আমার পথচলা

নিজের আত্মবিশ্বাস চেয়ে বড় কোনো হাতিয়ার নেই, আমি আমার নিজের প্রতি সেই বিশ্বাস রাখি, ইনশাআল্লাহ আমি পরিশ্রম আর জ্ঞানের সমন্বয়ে নিজেকে গড়ে তুলবো সেরা দের সেরা।

আসসালামু আলাইকুম, আমি ফয়সাল ভূইয়া। কুমিল্লা জেলার সন্তান। বাবা, মা আর বড় ভাইয়া সহ ৪ জনের ছোট্ট একটি মধ্যবিত্ত পরিবার আমার। অন্য সব মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মতোই আমারও বেড়ে ওঠা। পড়ালেখার শুরু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, তারপর শহরের অন্যতম ভালো স্কুলে মাধ্যমিক শেষ করলাম এবং কলেজ জীবন পাড় করলাম কুমিল্লা সরকারি কলেজে যেটি কিনা জেলার অন্যতম সেরা একটি কলেজ।

এবার আসা যাক আমার পেশাগত পথচলার বর্ণনায়

এবার আসা যাক আমার পেশাগত পথচলার বর্ণনায়, কুকিংকে পেশা হিসেবে নেয়ার আগে আমি ফুড বিজনেসে জড়িয়েছিলাম। ২০২০ সালে H.S.C শেষ করে অলস সময় পাড় করছিলাম। আমাদের কলেজের সামনেই ছিলো বন্ধুদের সবার আড্ডা। একদিন হঠাৎ করেই কয়েকজন বন্ধু মিলে ঠিক করলাম অলস বসে না থেকে যতদিন না আমরা অনার্সে ভর্তি হচ্ছি ততদিন পর্যন্ত আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসের পাশেই একটি মোবাইল রেস্টুরেন্ট দিয়ে ব্যবসা করা যায়, যদি এমনটা করা যায় তাহলে আমাদের সময়টাও কাজে লাগলো আর পরিবার থেকে টাকা না নিয়ে নিজেরাই নিজেদের পকেট খরচ চালাতে পারবো । যেই ভাবা সেই কাজ, শুরু করে দিলাম পরিকল্পনা করা।

আমরা কিছুই জানি না কিভাবে শুরু করবো কয়েকদিন এদিক সেদিক ঘুরলাম, অনেকে যারা এই ব্যবসায় জড়িত তাদের সাথে কথা বলে ধারণা পেলাম কিভাবে কি করবো । ১ মাসের মধ্যেই সব কিছু ব্যবস্থা করে ফেললাম। সব রেডি কিন্তু কুক করার জন্য একজন কুক হায়ার করা বাকি ছিলো। কোথা থেকে সেই লোক হায়ার করবো তা জানা ছিলো না, পরে একটি ফেসবুক গ্রুপের সন্ধান পাই। সেখানে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পেয়ে গেলাম একজন কুক । রেস্টুরেন্টের জন্য সেই কুককে হায়ার করে ফেললাম । যদিও তখন আসলে অনেক কিছুই জানতাম না , তারপরও প্রথম স্টেপটা নিয়ে আর থেমে থাকি নি আমরা। সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে গুছিয়ে শুরু হয়ে গেলো আমাদের রেস্টুরেন্টটির পথচলা। প্রচুর পরিমাণ গ্রাহক পাচ্ছিলাম আমরা, কারণ স্ট্রিট ফুডের কিছু জনপ্রিয় খাবার আমাদের মেনুতে এড করা হয়েছিলো। কয়েকদিন কেটে যাওয়ার পর গ্রাহক চাহিদা অনেক বেড়ে যায়, আর ফলস্বরুপ আমাদের আরো দক্ষ জনবলের দরকার পড়ে। কিন্তু নতুন আরও স্টাফ নিলে টাকা পয়সার একটা ব্যাপার আছে, তাই ঠিক করলাম কুকের সাথে আমরাই কাজ করব। সেই তখন থেকেই মূলত আমার কুকিং এর হাতেখড়ি হয়। এর আগে টুকটাক মাকে সাহায্য করার জন্যই রান্নায় জড়ানো হয়েছিলো। কিন্তু যখন আমাদের কুকের সাথে কিছুদিন কাজ করলাম এক অজানা ভালো লাগা কাজ করতে শুরু করলো কুকিং নিয়ে।

বিভিন্ন রকমের ভেজিটেবল কাট দেয়া শিখলাম কিন্তু নাম জানতাম না কি কাট এগুলো। চিকেন এর ডিশ বেশি ছিলো তাই চিকেন এর বিভিন্ন কাট দেয়াও শিখলাম সাথে চিকেন ডি বোন করা শিখলাম। এসবকিছু শিখে আমাদের গেস্টের অর্ডার দেয়ার সময়ও আমি ওর আশেপাশে থেকে শেখার চেষ্টা করতে লাগলাম এবং কিছুদিন পর গেস্টের অর্ডারও দেয়া শিখে গিয়েছিলাম আমি। সব কিছু এভাবে ভালোই চলছিল মাস শেষে ভালো পরিমাণে মুনাফা পাচ্ছিলাম আমরা। ৩ মাস এভাবে চলার পর একদিন হঠাৎ আমাদের কুক কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে যায়। আমরা বিপদে পড়ে যাই এবং টুকটাক যতটুকু কাজ শিখেছিলাম তা দিয়ে চালানো ও সম্ভব হয়ে উঠছিলোনা তার সাথে আরও অনেকগুলো সমস্যা এসে যুক্ত হয় যার কারণে আমাদের ব্যবসার ইতি টানতে হয়। আর আমি সেই কুকের প্রতি অনেক রাগ এবং ক্ষোভ নিয়ে ঠিক করি নিজেই একজন শেফ হবো এবং ইনশাআল্লাহ নিজে আরও অনেক বড় পরিসরে একটি রেস্টুরেন্ট খুলবো এবং সেটি পরিচালনাও আমিই করবো৷ আমার এই ভাবনার আরেকটি কারণ ছিলো তা হলো নতুন জন্ম নেয়া কুকিং এর প্রতি আমার ভালোবাসা।

কুকিং কে পেশা হিসেবে নেওয়ার আগে ওই কুকের সাথে কাজ করে টুকটাক কিছু কাটিং আর কিছু ডিশ বানানো জানতাম। কিন্তু কুকিং বা কুলিনারির আসল জগতের গভীরতা সম্পর্কে আসলে কিছুই জানতাম না। শুধু জানতাম কিছু প্রতিষ্ঠান আছে দেশে তাদের মাধ্যমে এই বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং তারপর আমি চাকরি পেয়ে যাবো এমনটাই মনে করতাম। এই ধারণা নিয়ে শুরু করলাম পথ চলা। কিন্তু ইচ্ছে ছিলো অনেক দূর যাওয়ার।

তাই সেই লক্ষ্য মাথায় রেখেই NHTTI এ ১ বছর মেয়াদী প্রফেশনাল শেফ কোর্সে ভর্তি হয়ে যাই। ২০২০ এর জানুয়ারীর প্রথম দিকে ক্লাস শুরু হবে, তার আগে আমাকে ঢাকায় শিফট করে ফেলতে হবে। ফেসবুক আমার বাসা খোঁজাটা অনেকটাই সহজ করে দিলো। আরও ২ জন রুমমেট সহ উঠে পরলাম নর্দার সেই বাসায়। ফ্যামিলি, বন্ধু- বান্ধব এবং চিরপরিচিত কুমিল্লা শহর ছেড়ে পাড়ি জমাই ঢাকায়। জীবনে প্রথম মায়ের হাতের খাবার ছাড়া ৩ বেলাই নিজের হাতের খাবার খাওয়া শুরু হয়ে গেলো ঢাকায় শিফট করার ২য় দিন থেকেই। নিজের রুম পরিষ্কার থেকে শুরু করে গুছিয়ে রাখার দায়িত্বও প্রথমবারের মতো নিজের কাঁধে পড়লো। সব মিলিয়ে এক নতুন লাইফ স্টাইল শুরু হয়ে গেল আমার। সাথে অনেক নতুন নতুন শিক্ষাও পাচ্ছিলাম। জানুয়ারীর ১০ তারিখ ক্লাস শুরু হয়ে গেলো। প্রথমদিন ক্লাসটা ছিলো ওরিয়েন্টেশন ক্লাস। তারপর দিন থেকে শুরু হয়ে গেলো আমার কুকিং শেখার অফিসিয়াল জার্নি। প্রথম দিনের ক্লাসে আমাদেরকে স্টক এবং ব্রথ বানানো শিখিয়েছিল। নতুন কিছু শেখা বরাবরই আমার কাছে অনেক অনেক বেশি আনন্দের, সেদিনও অনেক খুশি ছিলাম নতুন কিছু শিখে। এভাবে চলতে থাকলো আমার ক্লাস। কুকিং নিয়ে হাজারো স্বপ্ন দেখা শুরু করি। কারন আমি নিজের অজান্তেই কুকিংটাকে নিঃস্বার্থ ভালোবেসে ফেলি।

আমার মনে হচ্ছিলো আমার শেখার মধ্যে কিছু একটা নেই। অন্য সবার মত গতানুগতিক সবকিছু চলছে। আমি নতুন কিছু চাচ্ছিলাম। যা সবার থেকে আলাদা। একরকম হতাশা কাজ করছিলো।

কিন্তু একদিন বিকেলে ক্লাস শেষ করে এসে খাবার খাওয়ার পর রেস্ট নিচ্ছিলাম ঠিক তখনি-

আল্লাহর অশেষ রহমতে ফেসবুকে দেখলাম Chef Xavier এর পেইজ। প্রথম লেখাটি পড়ার পর মনে হলো আমি যেনো কোনো জ্ঞানের খনির সন্ধান পেলাম। আমি ওই দিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত শেফের লেখাগুলো প্রথম থেকে শুরু করে অনেকগুলো পড়ে ফেলি। উনার লেখা পড়ে আমি উনার ভক্ত হয়ে গেলাম। আমার মধ্যে কুকিং নিয়ে একটা নতুন ভাবনা, ভালোলাগা এবং আবেগ কাজ করা শুরু করলো। তারপর প্রতিদিনই আমি শেফের পোস্টগুলো পড়তে থাকলাম ঘণ্টার পর ঘন্টা , আমি একপর্যায়ে এডিক্টেড হয়ে গিয়েছি এই পোস্ট গুলোর প্রতি। বুঝতে শুরু করলাম আসলে কুলিনারি কি? এর গভীরতা কতটা বিশাল। মনে হতে লাগলো আমিও জানবো শিখবো, সেই থেকেই আমার শেফ জেভিয়ারের সাথে কথা বলা শুরু, জানা শুরু হলো অনেক কিছু। তিনি আমাকে দিয়েছেন অনুপ্রেরণা এবং প্যাশন। তার কাছ থেকেই জানা সব কিছুর শুরুতে নিজের মধ্যে ভালো একটা Attitude ধারণ করা। আমিও একটা কথা বিশ্বাস করি, জীবনে যতোই বড় হও না কেন পা দুটো মাটিতেই রেখো আর বিনয়ী থেকো কারন মাটির তৈরী, মাটিতেই আত্মসমর্পণ করতে হবে। সময়টাও খুবই কম দুনিয়ায়। শেফের লেখার মধ্যে আমি নিজের জন্য ম্যাসেজ খুঁজে বেড়ানো শুরু করি। সেই অনুযায়ী এগোতে থাকি। প্রতিদিনই নতুন কিছু না কিছু শিক্ষা নিতে থাকলাম।

কোর্স করার সেই সময়টায় রিয়েল কুকিংটা কি সেটা আমি ঠিকই বুঝতে শুরু করলেও, শেখার এবং প্রয়োগ করার কোনো জায়গা পাচ্ছিলাম না। তাই রিয়েল কুকিং এর কিছুটা হলেও শেখার জন্য, চাকরির সন্ধান করতে লাগলাম। অনেক জায়গায় সিভি দিলাম কোন সাড়া পাচ্ছিলাম না কারণ আমি নতুন এই পেশায়। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে কিছুদিন যাওয়ার পর আমার পরিচয় হয় আমার পাশের বাসার এক বড় ভাই, রানা ভাইয়ার সাথে ( তিনি এখন Radisson Blu Dhaka Water Garden এ Demi Chef De Partie হিসেবে আছেন)। রানা শেফ তখন বনানীর Ibiza Bistro Cafe & Restaurant এর Executive Chef ছিলো।

তার কাছে আমি ইন্টারভিউতে অনেক অনেক কিছু শেখার ইচ্ছা প্রকাশ করায়, সাথে সাথে তিনি আমাকে তার টিমে নিয়ে নেন। তবে তিনি আমাকে বলেছিলেন প্রথমে একজন ডিশওয়াশার হিসেবে কাজ করা শুরু করতে হবে। আমি শেখার জন্য এতটাই ডেস্পারেট ছিলাম যে আমি রাজি হয়ে গেলাম। কাজ শুরু করলাম তার পরের দিন থেকেই। কাজে যোগ দেয়ার কিছুদিন পর দিনের বেলায় ক্লাস করে আবার ডিউটি টাইমিং মিলাতে সমস্যা হওয়ায়, আমি রাতের শিফটে ( 7 PM – 4 AM) ডিউটি করা শুরু করলাম। ডিউটি শেষে রেস্টুরেন্টেই ২-৩ ঘন্টা ঘুমিয়ে আবার সকালে ক্লাসে যেতাম। এভাবেই কাজ চালিয়ে আমি আমার কোর্স শেষ করি। কোর্স শেষের পর ক্যাজুয়াল হিসেবে কাজ শুরু করলাম Radisson Blu Dhaka Water Garden এ। আর রেগুলার শেফ জেভিয়ার এর লেখাগুলো পড়ে নিজের অনুপ্রেরণা নিতাম। পোস্টগুলো আসলে কুলিনারির গভীরতম তথ্যের ভান্ডার। আর আমি সেই সাগরের মধ্যে বিচরণ করতে থাকা একটি সামুদ্রিক মাছ হয়ে গেলাম। আমি অনেক অনেক কিছু শিখেছি, আমি এই প্রফেশনকে ভালবেসেছি এবং একে মনে প্রাণে ধারণ করতে শিখেছি শেফ জেভিয়ার এর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে।

এভাবেই চলছিলো আমার দিন কাল। আর আমিও এদিক সেদিক অনেক জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু নতুন বা কম অভিজ্ঞতার জন্য জিনিসটা অনেকটাই কষ্টকর হয়ে উঠে। এভাবে চেষ্টা করতে থাকার, প্রায় ৪ মাস পর ২০২৩ এর ফেব্রুয়ারীতে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার Marriott Riyadh Diplomatic Quarter Hotel এ চাকরি হয়ে যায়। শেফ জাহেদ আহমেদ (Demi Chef de Partie in St. Regis Red Sea Hotel and Resort ) আমার চাকরিটি পাওয়ার পথটা অনেকটা সহজ করে দিয়েছিলেন। তিনিও অনেক বছর যাবত কুলিনারি জগতে আছেন এবং তিনি নতুনদেরও বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তিনি তখন এই হোটেলে কর্মরত ছিলেন। উনার কাছ থেকে অনেক হেল্প পেয়েছি আমি, যার কারনে আমার সৌদিতে চলার পথটা অনেকটা সহজ হয়ে গিয়েছে।

আমি এই হোটেলে জয়েন করার পর অনেক কিছু শিখতে এবং জানতে পারছি প্রতিদিনই। যেমনঃ বিভিন্ন দেশের মানুষজনের সাথে কিভাবে মিশতে হবে, কিভাবে হাই প্রেশারের মধ্যে কিচেন অপারেশন চালিয়ে যেতে হবে, কিভাবে গেস্টের চাহিদা বুঝে তাকে তার পছন্দের খাবারটি দিয়ে হ্যাপি করা যাবে, ফুড সেইফটির প্রয়োগ, প্রপার হাইজিন, প্রপার গ্রুমিং এবং কিচেনকে সেইফ রাখার উপায়গুলো সহ আরো অনেক কিছুই। এখনে আমি বিভিন্ন দেশের শেফদের থেকে তাদের দেশের অনেকগুলো ঐতিহ্যবাহী কুকিং টেকনিক এবং কুকিং হ্যাক শিখেছি। আমি “Goji Restaurant” যেটা পুরো রিয়াদ শহরের নামকরা একটি রেস্টুরেন্ট, সেখানে কাজ করছি। আমার Sous Chef কুকিং এর প্রতি আমার ডেডিকেশন এবং ভালোবাসা দেখে আমাকে ” Lion ” বলে ডাকে। কারন আমাকে কিছু করতে বললে সাথে সাথেই আমি আমার মন, মাথা এবং শক্তি কাজে লাগিয়ে যত দ্রুত সম্ভব তার দেয়া কাজটি শেষ করে দেই। এমন অনেক দিন গিয়েছে আমি খাওয়া-দাওয়া ভুলে গিয়ে শুধু শেফের দেয়া একটার পর একটা টাস্ক কমপ্লিট করে গিয়েছি।

তবে আমার এই সব এ্যাচিভমেন্টের ক্রেডিট আমার মেন্টর শেফ জেভিয়ারের। উনিই আমার ভিতরের সিংহটাকে জাগিয়ে দিয়েছিলেন এবং তিনিই আমাকে কুকিংটাকে ভালোবাসতে হয় কিভাবে তা শিখিয়েছিলেন। আমি এর জন্য চির কৃতজ্ঞ থাকবো আমার মেন্টরের কাছে। আমার মেন্টর সব সময়ই একটি কথা বলেন, যা আমি মনে প্রাণে ধারণ করেছি “ভালো শেফ হওয়ার আগে একজন ভালো কুক হতে হবে”। তাই আমি এখন একজন খুবই ভালো কুক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। সব সময়ই কিছু রান্না করার আগে ওই ডিশ টাকে কল্পনায় একবার বানানোর চেষ্টা করি, আর এমনটা করে আমি সব সময়ই ভালো খাবার সার্ভ করতে পেরেছি আল্লাহর অশেষ রহমতে। আমি নিজেকে সব সময়ই শিক্ষার জন্য ব্যয় করে যেতে চাই। আর এসব বিষয়গুলো জানার জন্য আমার প্রয়োজন হয়েছিলো একজন মেন্টর/ দিকনির্দেশক আর সেই জায়গাটা সব সময় ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন শেফ জেভিয়ার আমার গুরুর ছত্র ছায়ায় থেকে আমি একদিন নিজেকে সেরা একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। 

নিজেকে চ্যাম্পিয়ন বানাতে চাই, তাই স্কিল শেখার পাশাপাশি কুলিনারির উপর উচ্চতর ডিগ্রিও নিতে চাই। ইনশাআল্লাহ, আমার মেন্টরের দিকনির্দেশনায় খুব জলদি নিজের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্যও জার্নি শুরু করবো । ক্যারিয়ারের কোন এক সময় নিজের জড়ো করা সব অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে ইউনিক একটি রেস্টুরেন্ট ওপেন করতে চাই যেখানে গেস্টের চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি, কুকিং নিয়ে যারা প্যাশনেট তাদের শেখার ব্যবস্থাও থাকবে। আমি জানি সে জন্য আমাকে অনেক পরিশ্রম, ধৈর্য এবং সঠিক মনোভাব নিয়ে লেগে থাকতে হবে শেষ পর্যন্ত । ইনশাআল্লাহ যাই হোক না কেন আমি হাল ছাড়বো না। আমি একজন শক্ত ফাইটারের মতো ফাইট করে যাবো সব কিছুর সাথে। আমার মেন্টর আমাকে একজন চ্যাম্পিয়ন বলে ডাকেন ইনশাআল্লাহ আমি সেই নামের প্রতিদান দিয়ে দেখাবো একদিন। ধন্যবাদ শেফ আমাকে কুলিনারির প্রতি প্যাশনেট করার জন্য

এখন আসি আমার নিজের দক্ষতা, দূর্বলতা, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জসমূহ কি কি তা বিশ্লেষণ করি।

আমার দক্ষতাসমূহঃ

★ কোনো কিছু সঠিকভাবে শেষ না করে, হার না মানার মানসিকতা।

★ প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার জন্য মুখিয়ে থাকি, শেখার জন্য নিজের তরফ থেকে এক্সট্রা মাইলস পাড়ি দিতেও দ্বিধাবোধ করি না।

★ চোখের সামনে যেটা একবার দেখি সাথে সাথে নিজে চেষ্টা করে তা নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসতে পারি।

★ এখন পর্যন্ত কাজ করা প্রতিটি কিচেনই ছিলো ফাস্ট পেইসড, আর আমি নিজের সবটা দিয়ে সেই কিচেনগুলোতে নিজেকে খুবই জলদি মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি।

★ কাজের সময় যতই মেন্টাল প্রেশারই আসুক না কেনো আমার কাজে ইফেক্ট করতে পারে নি এখন পর্যন্ত।

★ হাইজিন,হ্যাজার্ড, ফুড সেইফটি এবং প্রপার কুলিনারি নলেজ দিয়ে নিজের সেরা কাজ প্রদর্শন করার সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করি সবসময়।

★ সময়ের সর্ব্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার করার চেষ্টা করি সব জায়গায়।

★ আমার প্রফেশনে ভাষা অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তাই ইংরেজি ভাষার উপর নিজেকে দিন দিন দক্ষ করে তুলছি।

★ আমি পজিটিভ মাইন্ডেড, বিনয়ী, নিরহঙ্কারী এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বিলম্ব করি না।

আমার দূর্বলতাসমূহঃ

★ বেশিরভাগ সময়ই মানুষ সঠিকভাবে চিনতে পারি না।

★ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কারো প্রশংসা, কারো চামচামি করে উপরে উঠা এসব আমাকে দিয়ে হয় না।

 আমার সম্ভাবনাসমূহঃ

★ আমার সবচেয়ে বড় সফলতা শেফ জেভিয়ারের মতো মেন্টর পাওয়া। আমি একজন টপ লেভেলের শেফ এবং কুলিনারি জ্ঞানীর কাছ থেকে গাইডলাইন পাচ্ছি যা আমাকে, ভবিষ্যতে অনেক দূর নিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

★ আমার রান্নার প্রতি ভালোবাসা এবং এটার প্রতি আমার ডেডিকেশন আর এগুলো নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মনোভাব আমার বড় হাতিয়ার।

★ আমার সৃজনশীলতা সঠিক জায়গায় চর্চা করে, দেশ এবং দেশের বাইরে তার প্রয়োগ করতে পারলে ইনশাআল্লাহ সফল আমি হবোই।

আমার চ্যালেঞ্জসমূহঃ

★ সবার আগে বর্হিবিশ্বের সেরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কুলিনারির উপর অনেক জ্ঞান অর্জন করা।

★ বিশ্বের সেরা সেরা হোটেল এবং রেস্টুরেন্টে কাজ করা এবং সেইসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেকে উপরে তোলা।

★ বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম সেরা একজন শেফ হওয়া এবং সেরা একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করা।

আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাঃ

ভবিষ্যতে কি হবে তা জানেন শুধুমাত্র আল্লাহ, তবে আমি নিজেকে যেখানে দেখতে চাই, সেখানে পৌঁছানোর জন্য যদি সঠিকভাবে চেষ্টা করি তাহলে অবশ্যই পরম করুণাময় আল্লাহ আমাকে তা পেতে সাহায্য করবেন। প্রথমেই আমি কুলিনারির উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করতে চাই, আমার মেন্টরের দেখানো প্রতিষ্ঠান থেকে। তারপর সেই শিক্ষাকে এবং এখন পর্যন্ত আমার কাজের অভিজ্ঞতাকে একসাথে করে নিজের উপরে উঠার সিঁড়িটাকে আরও মসৃণ করতে চাই। আমার পরের জেনারেশনে যারা প্যাশনেট থাকবে আমার মেন্টরের সাথে মিলে ওদের জন্যও কিছু করতে চাই। আমি চাই ইন্ডিয়ানদের যেমন এই পেশায় অনেক ডিমান্ড ঠিক সেই ডিমান্ড আমাদের বাংলাদেশের শেফদেরও হোক ভবিষ্যতে।

আমি দেশে এবং বিদেশে সেরা জায়গায় কাজ করে সেরা সব স্কিল আয়ত্ত করে তার প্রয়োগ করে নিজেকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রমাণ করতে চাই । বাংলাদেশের প্রথম মিশেলিন স্টার্ড রেস্টুরেন্টের মালিক এবং তার পরিচালনাকারী শেফ হতে চাই। আমি বিশ্বাস করি সব স্বপ্নই বাস্তবায়ন করা সম্ভব যদি তার জন্য যা যা লাগে সেগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করা যায়। আমাদের হোটেলের ব্রিফিংয়ে স্বপ্ন দেখা এবং তা বাস্তবায়ন নিয়ে গত সপ্তাহে একটি খুবই চমৎকার বাক্য শুনেছিলাম এবং এই বাক্যটি আমাকে অনেকটা সাহসী করে তুলেছে আমার স্বপ্নগুলোর ব্যাপারে। সেই বাক্যটি শেয়ার করলাম, ” Your all dreams can come true, If you have courage to pursue them “. অর্থাৎ, “আপনার সমস্ত স্বপ্ন সত্য হতে পারে, যদি আপনি তাদের অনুসরণ করার সাহস রাখেন”। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি আমার স্বপ্নগুলোও আমি বাস্তবে রুপ দান করবো একদিন ইনশাআল্লাহ। সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য যেনো আমার স্বপ্নগুলো আমি বাস্তবতায় রুপ দিতে পারি এবং আমার পরিবার, মেন্টর সহ আমার সকল শিক্ষকদের যেন গর্বিত করতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Your custom text © Copyright 2024. All rights reserved.
Close