SIDDIKA KABIR

41

মানুষের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও লিঙ্গভেদে খাবারে চাহিদাও ভিন্ন হয়ে থাকে তাই প্রতিটি মানুষের পুষ্টি সম্পর্কে জানা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আর এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আমাদের মধ্যে রোপন করে গেছেন একজন শিল্পী, তিনি রন্ধন শিল্পী। তার “রান্না খাদ্য পুষ্টি” এই বইটি এখনো আমার কাছে আছে, প্রথম এই বইটির সাথে আমার পরিচয় অনেকগুলো বছর আগে। তাঁর এই বইটি বাংলাদেশের রসনাবিলাসী মানুষের রান্নাঘরে অপরিহার্য হয়ে উঠে সেই কয় এক যুগ আগে থেকে। আমি জানি এই বইটির থেকে রেসিপি অনেকে এখনো অনুসরণ করছে পেশাদার থেকে প্রতিদিনের ঘরের রান্না করার কাজে। এই বইটি কতটুকু বহুল প্রচলিত আর বিক্রিত বই আপনাদের অনেকের কাছে, বিশেষ করে এখনকার প্রায় তরুণ-তরুণীরা হয়তো জানে না।

তার “রান্না খাদ্য পুষ্টি” এই বইটি এখনো আমার কাছে আছে, প্রথম এই বইটির সাথে আমার পরিচয় অনেকগুলো বছর আগে। তাঁর এই বইটি বাংলাদেশের রসনাবিলাসী মানুষের রান্নাঘরে অপরিহার্য হয়ে উঠে সেই কয় এক যুগ আগে থেকে। আমি জানি এই বইটির থেকে রেসিপি অনেকে এখনো অনুসরণ করছে পেশাদার থেকে প্রতিদিনের ঘরের রান্না করার কাজে। এই বইটি কতটুকু বহুল প্রচলিত আর বিক্রিত বই আপনাদের অনেকের কাছে, বিশেষ করে এখনকার প্রায় তরুণ-তরুণীরা হয়তো জানে না।

তার রান্নার বই দেখে অনেক গৃহবধু, তরুণী বা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত নারীরা এমনকি বিদেশে কাজে বা পড়তে যাওয়া যুবকরা বইটি থেকে রেসিপি দেখে তাদের প্রতিদিনের রান্না করতো। তাই তাদের বাইরে যাওয়ার সময় তাদের লাগেজে এই বইটি থাকতো। উনি দেশের রান্নাকে একটি ব্যাপক মৌলিক ভিত্তি দিয়েছিলেন। এখনো হাজার হাজার ঘরের বুক শেলফে উনার বইগুলো বিদ্যমান। দেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম বহুল বিক্রিত বই আর এই বইয়ের লেখক আমাদের প্রায় সবার কাছে এক আবেগ, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার নাম। 

সেই মহান সন্মানিত নারীর নাম সিদ্দিকা কবীর। যাকে রান্নার আইডল বলা হয়ে থাকে।
সিদ্দিকা কবীর যাকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের রান্নার পথিকৃৎও বলা হয়ে থাকে, যিনি একাধারে একজন শিক্ষক, লেখক এবং পুষ্টিবিদ ছিলেন। ১৯৬৫ সালে উনি আনুষ্ঠানিক রান্না শেখা শুরু করেন। সেই সময় পাকিস্তান টেলিভিশনে “ঘরে বাইরে” নামক একটি রান্নার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করা শুরু করেন। 

পরবর্তীতে তিনি প্রিন্ট মিডিয়া তে রান্নার রেসিপি লিখতে থাকেন আর বহুল জনপ্রিয় সিদ্দিকা কবীর’স রেসিপি নামে একটি অনুষ্ঠান প্রচার করেন এবং খুব জনপ্রিয়তা পায়। উনার লিখিত বই “খাদ্যপুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থা” স্নাতক পর্যায়ে পড়ানো হয়।

সিদ্দিকা কবিরের জন্ম ১৯৩১ সালের ৭ মে পুরান ঢাকার মকিম বাজারে। তাঁর বাবা মৌলভি আহমদুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ও পরবর্তীতে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক ছিলেন আর মাতা সৈয়দা হাসিনা খাতুন একজন গৃহিনী ছিলেন। ব্যাংকার সৈয়দ আলী কবীরকে সিদ্দিকা কবীর বিয়ে করেন ১৯৭২ সালে। 

তিনি পড়ালেখা করেন প্রথমে ইডেন কলেজে, সেখান থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম বিভাগ নিয়ে তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হন, সেখান থেকে সফলতার সাথে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাস্ট্রের ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশুনা করেন এবং ১৯৬৩ খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তার আগে স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পর তিনি সনামধন্য ভিকারুনন্নিসা স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে পরবর্তীতে ইডেন কলেজে গণিতের প্রভাষক হিসেবে যোগ দান করেন এবং বিদেশ থেকে ফিরে তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত হন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, আজিমপুরে।

১৯৯৩ সালে সেখান থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তারপর রান্না সম্পর্কিত কাজগুলোতে উনি নিজেকে আরও জড়িত রাখেন। এই মহান ব্যাক্তিত্বের রন্ধন শিল্পী ২০১২ সালে ঢাকার স্কয়্যার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন উনি বেঁচে থাকবেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম। অনেক অনেক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা রইলো এই মহান মানুষটির প্রতি।

বি.দ্র: এই লেখার অনেকটা তথ্য নিতে হয়েছে উইকিপিডিয়া আর কয় একজন লেখক থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Your custom text © Copyright 2024. All rights reserved.
Close